Best Dentist in Dhaka-Cosmodent Dental Care

মুখ ও দাতের যত্নে সাধারন কিছু টিপসঃ

মুখ ও দাতের যত্নে সাধারন কিছু টিপসঃ

আমাদের শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো দাঁত। আমাদের পরিপাক তন্ত্রের প্রথম কার্যক্রম শুরু হয় দাঁত দ্বারা খাদ্য দ্রব্যের চিবানোর মাধ্যমে। সুন্দর হাসি, সঠিক উচ্চারনে কথা বলা ও খাদ্যদ্রব্য চিবিয়ে খাওয়া ছাড়াও শরীরের অনান্য রোগব্যধি প্রতিরোধ বা প্রতিকারের জন্য দাঁতের গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক গবেষনায় দেখা গিয়েছে যে দীর্ঘদিন মাড়ির প্রদাহ থেকে জীবানু সহজেই রক্তনালীতে ডুকে পড়ে, ফলে হার্ট এটার্ক এবং স্ট্রোকের মত মারাত্বক পরিনতি ডেকে আনতে পারে। তাছাড়া এলজেইমার ডিজিজ বা ভুলে যাওয়া রোগ, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, স্বাসকস্ট, দীর্ঘ মেয়াদি মাথা ব্যথা, অপরিপক্ক বা কম ওজনের সন্তান প্রসব, নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সন্তান প্রসব ইত্যাদির জন্যও মুখ ও দাঁতের রোগসমুহ দায়ী। অথচ একটু সচেতন হলেই অধিকাংশ দাঁতের রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। দাঁতের যত্নে সাধারণ কিছু টিপস জেনে নেই-
১) প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে টুথপেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে ওপর থেকে নিচে এবং নিচ থেকে ওপরের দিকে ভালো করে দাঁত ব্রাশ করবেন এবং দাঁতের ভেতর দিকেও ভালো করে ব্রাশ করবেন।
২) ২ থেকে ৩ মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করবেন এবং সব দাঁতের সব অংশ পরিস্কার করবেন। দাঁত ব্রাশ করার পর হাতের আংগুল দিয়ে দাঁতের মাড়ি মেসেজ করবেন এবং জিব ভালভাবে পরিস্কার করবেন।
৩) দীর্ঘদিন যাবত একই টুথপেস্ট ও ব্রাশ ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ বিভিন্ন পেস্টে বিভিন্ন ধরনের উপাদান থাকে। প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর টুথপেস্টের ব্রান্ড এবং টুথব্রাশ পরিবর্তন করা ভালো।
৪) যেসব জায়গা ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব নয় সেসব জায়গায় ডেন্টাল ফ্লস বা চিকন নাইলনের সুতা ব্যবহার করবেন তবে টুথপিক ব্যাহার থেকে বিরত থাকবেন।
৫) যখন দাঁত ব্রাশ করা বা ফ্লস বা মাউথ ওয়াস ব্যবহার সম্ভব নয় তখন খাওয়ার পর মুখের ভিতরে আংগুল দিয়ে ভাল ভাবে পরিস্কার করে কুলি করবেন । খাওয়ার একদম শেষে চিজ খেতে পারেন কারন এটি মুখে জমে থাকা খাবার/চিনি দূর করে এবং স্যালিভারি (লালা) নির্সরন বৃদ্ধি করে। এতে মুখ পরিস্কার থাকে। আজকাল চিনি ছাড়া চুইংগাম পাওয়া যায়, এগুলোও লালার প্রবাহ বাড়িয়ে মুখ পরিস্কার করতে দারুন কার্যকর ভুমিকা রাখে, তবে যে কোন পরিস্থিতিতেই ব্রাশ এবং পেস্ট দিয়ে দাত মাজার চেস্টা করুন।
৬) বয়স্ক বা যাদের শারিরিক বা মানষিক সীমাবদ্ধতা আছে তাদের জন্য ইলেট্রনিক টুথব্রাশ এবং নিয়মিতভাবে মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা প্রয়োজন।
৭) বিশেষ বিশেষ খাবার যেমন- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি, চকলেট, আইসক্রিম, কোকাকোলা ইত্যাদি কম খাবেন এবং খাওয়ার পর খুব ভালো করে দাঁত পরিষ্কার করে নেবেন। তা না হলে ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
৮) কয়লা, গুল, টুথ পাউডার, ছাই, মাটি, ইত্যাদি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এতে দাঁত ও দাঁতের মাড়ির সুরক্ষা তো হয়ই না বরং দাঁতের এনামেল নস্ট হয়ে দাঁত শিরশির করতে পারে।
৯) স্থানান্তরযোগ্য নকল দাঁত অথবা ভাঙ্গা দাঁতের থেকে মুখের ভিতরে ক্ষত হতে পারে এবং তা পরবর্তীতে ক্যন্সারে রুপান্তরীত হতে পারে তাই মুখের ভিতরে নস্ট দাঁত রাখবেন না, হয় ফিলিং/রুট ক্যনাল করিয়ে নিন অথবা তুলে ফেলুন। মুখের ভিতরে ক্যান্সারের পূর্বাবস্থায় কোন লক্ষন দেখা দিলে তাড়াতাড়ি ডেন্ট্রিস্ট্রের সরনাপন্ন হন।
১০) ধূমপান, পান-সুপারি, জর্দ্দা, তামাক পাতা ইত্যাদি পরিহার করুন কারণ এগুলোতে মুখ ও দাঁতের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং দাঁতের রোগ হওয়ার সম্ববনা বেড়ে যায়।
১১) বিস্কুট, কেক, চকলেট-লজেন্স, চিনিযুক্ত চা কফি কম খাবেন এবং এগুলো খাবার পর ভালো করে দাঁত পরিষ্কার করে ফেলবেন নতুবা দাঁতের ক্ষতি হয় অনেক বেশি।
১২) আঁশযুক্ত ও শক্ত খাবার যেমন-গাজর, পেঁয়ারা, আমড়া, ইক্ষু, আনারস, নাশপাতি, আপেল, নারকেল ইত্যাদি দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এবং এগুলো চোয়ালের স্বাভাবিক গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
১৩) ভিটামিন সি জাতীয় খাবার দাঁত ও মাড়ির জন্য অত্যন্ত উপকারী। লেবু, আমলকী, কমলা, টমেটো ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অন্যান্য ভিটামিন থাকে। তাই দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় খাদ্যতালিকায় রাখুন এইসকল খাবার।
১৪) প্রতি ছয় মাস অন্তর ডেন্টাল চেক আপ করানো উচিত এবং প্রয়োজনে দাঁতের রুটিন ডেন্টাল স্কেলিং এর মাধ্যমে প্লাগ পরিষ্কার করা হলে দাঁতের ক্যারিজ ও মাড়ির রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব যা কিনা ব্রাশ বা ডেন্টাল ফ্লসের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তাছাড়া নিয়মিত ৬ মাস অন্তর ডেন্টাল চেক আপের ফলে দাঁতের আরও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
১৫)দাঁত ব্যথা হলে তা তুলে ফেলার খরচ সামান্য হলেও এর ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গে যে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দিতে পারে তার চিকিৎসা খরচ অনেক বেশি। মনে রাখবেন একটি অসুস্থ দাঁতকে উন্নত টেকনোলজির মাধ্যমের সুস্থ করতে যে খরচ হয়, তা পরবর্তী পাশ্বপতিক্রিয়ার দুর্ভোগ ও চিকিৎসার বিপুল খরচের বহুগুণ কম। এ জন্য আমাদের আগে থেকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন এবং কোন কারনে দাঁত তুলতে হলে যত দ্রুত সম্ভব তা প্রতিস্থাপন করে নেয়া প্রয়োজন।